নাম ও পরিচিতি
(১) এই সংগঠনের নাম “আমরা কাঞ্চন পৌরবাসী সংগঠন”।
(২) সংগঠনটি ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
(৩) এই গঠনতন্ত্রে “সংগঠন” বলতে “আমরা কাঞ্চন পৌরবাসী সংগঠন” বোঝাবে।
ঠিকানা ও কার্যালয়
(১) সংগঠনের কার্যালয় : গ্রাম ও পোস্ট অফিস : কাঞ্চন, উপজেলা : রূপগঞ্জ, জেলা : নারায়ণগঞ্জ।
(২) যোগাযোগ : মোবাইল ০১৬৮৩৩৫৪৩৯৪, ইমেইল amaderkanchan2@gmail.com।
(৩) প্রয়োজনে কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে কাঞ্চন এলাকার মধ্যে কার্যালয় স্থানান্তর করা যাবে।
প্রকৃতি ও কর্মএলাকা
(১) সংগঠনটি অরাজনৈতিক, অলাভজনক, স্বেচ্ছাসেবী ও জনকল্যাণমূলক।
(২) সংগঠনের কর্মএলাকা কাঞ্চন পৌর এলাকা। প্রয়োজনে রূপগঞ্জ উপজেলা ও সংলগ্ন এলাকায় কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে। দেশের ক্রান্তিলগ্নে সাময়িক সময়ের জন্য যেকোনো জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।
লক্ষ্য
সমাজের সার্বিক উন্নয়ন, মানবিক মূল্যবোধের বিকাশ এবং অসহায় মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে একটি সুস্থ, সচেতন ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলাই এ সংগঠনের মূল লক্ষ্য।
উদ্দেশ্যসমূহ
(১) মানবিক ও সামাজিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম
অসহায়, দুস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ (যেমন বন্যা) ও মহামারী পরিস্থিতিতে ত্রাণ ও জরুরি সহায়তা প্রদান।
সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতা, সৌহার্দ্য ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা।
(২) স্বাস্থ্যসেবা ও জনসচেতনতা
নিয়মিত রক্তদান কর্মসূচি পরিচালনা ও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উৎসাহ প্রদান।
বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের লক্ষ্যে মেডিকেল/হেলথ ক্যাম্প আয়োজন।
জনসাধারণের মধ্যে স্বাস্থ্যবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
(৩) পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র্য উন্নয়ন
নদী ও জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
(৪) যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান
বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মমুখী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা।
বেকারত্ব হ্রাসে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা।
(৫) সামাজিক সচেতনতা ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম
অবৈধভাবে বিদেশ গমন প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি।
সমাজের বিভিন্ন কুসংস্কার, প্রতারণা ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি।
(৬) ধর্মীয় ও মানবিক কার্যক্রম
পবিত্র মাহে রমজানে ইফতার মাহফিল আয়োজন।
ঈদ উপলক্ষে অসহায় মানুষের মাঝে উপহার/বস্ত্র বিতরণ।
সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখা।
মূলনীতি
(১) সংগঠন কোনো রাজনৈতিক দল বা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকবে না এবং সংগঠনের নাম, পদ বা কার্যক্রম দলীয় রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না।
(২) ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, পেশা ও লিঙ্গ নির্বিশেষে সবার জন্য সংগঠনের সেবা উন্মুক্ত থাকবে।
(৩) সংগঠনের সকল কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গণতান্ত্রিক চর্চা নিশ্চিত করা হবে।
(৪) সংগঠনের কোনো সদস্য সংগঠনের সম্পদ বা তহবিল থেকে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।
সদস্যপদের শ্রেণি
সংগঠনের সদস্য তিন শ্রেণির হবে :
ক. সাধারণ সদস্য : কাঞ্চন এলাকার বাসিন্দা, যিনি এই গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্যপদ লাভ করেছেন। সাধারণ সদস্য ও আজীবন দাতা সদস্যদের নিয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত হবে।
খ. আজীবন দাতা সদস্য : কাঞ্চন এলাকার বাসিন্দা, প্রবাসী বা এলাকার বাইরের যে কেউ, যিনি সংগঠনের তহবিলে সাধারণ পরিষদ নির্ধারিত অঙ্কের এককালীন অনুদান প্রদান করেছেন। তিনি আজীবন সদস্য থাকবেন এবং তাঁকে ভর্তি ফি বা নিয়মিত চাঁদা দিতে হবে না। তিনি সাধারণ সদস্যের মতো সভায় অংশগ্রহণ, মতামত প্রদান ও ভোটাধিকার ভোগ করবেন। আজীবন দাতা সদস্যদের একটি পৃথক নিবন্ধন বই সংরক্ষণ করা হবে।
গ. সম্মানিত সদস্য : সমাজে বিশিষ্ট ও সম্মানিত ব্যক্তি, যাঁকে কার্যনির্বাহী কমিটি সংগঠনের কল্যাণে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মনোনীত করবে। তাঁর ভোটাধিকার ও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার থাকবে না।
সদস্য হওয়ার যোগ্যতা ও পদ্ধতি
(১) সাধারণ সদস্য হতে হলে আবেদনকারীকে কমপক্ষে ১৮ (আঠারো) বছর বয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন, সৎ ও সমাজহিতৈষী হতে হবে।
(২) আবেদনকারীকে সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও গঠনতন্ত্রে আস্থা জ্ঞাপন করতে হবে।
(৩) দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩০২ অনুযায়ী অথবা কোনো নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত কোনো ব্যক্তি সংগঠনের সদস্য হতে পারবেন না।
(৪) নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে এবং কার্যনির্বাহী কমিটির অনুমোদনের পর সদস্যপদ কার্যকর হবে।
(৫) ভর্তি ফি, নিয়মিত চাঁদা ও আজীবন দাতা সদস্যের এককালীন অনুদানের পরিমাণ সাধারণ পরিষদ নির্ধারণ করবে।
সদস্যের অধিকার ও কর্তব্য
(১) অধিকার : সাধারণ সদস্য সাধারণ পরিষদের সভায় অংশগ্রহণ, মতামত প্রদান, ভোটদান এবং নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবেন। তিনি সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাব দেখতে চাইতে পারবেন।
(২) কর্তব্য : প্রত্যেক সদস্য গঠনতন্ত্র মেনে চলবেন, সংগঠনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন, নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করবেন এবং সংগঠনের সুনাম রক্ষা করবেন।
সদস্যপদ বাতিল ও স্থগিত
(১) নিম্নলিখিত কারণে সদস্যপদ বাতিল হবে :
ক. লিখিতভাবে পদত্যাগ করলে বা মৃত্যুবরণ করলে;
খ. গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করলে বা সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কাজ করলে;
গ. দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ধারা ৩০২ অনুযায়ী আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হলে;
ঘ. কোনো নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হলে।
(২) সদস্যপদ বাতিলের আগে সংশ্লিষ্ট সদস্যকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে কমপক্ষে ৭ (সাত) দিন সময় দিতে হবে।
(৩) কার্যনির্বাহী কমিটির দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে সদস্যপদ বাতিল করা যাবে। বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সাধারণ পরিষদে আপিল করা যাবে এবং সেখানকার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
(৪) কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার পর বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কার্যনির্বাহী কমিটি সংশ্লিষ্ট সদস্যের সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে পারবে। স্থগিত থাকাকালে ওই সদস্য ভোটাধিকার ও নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।
সাংগঠনিক কাঠামো
সংগঠনের কমিটি হবে তিনটি : (১) কার্যনির্বাহী কমিটি, (২) স্থায়ী কমিটি এবং (৩) উপদেষ্টা পরিষদ। এছাড়া সংগঠনের সকল সাধারণ সদস্য ও আজীবন দাতা সদস্য নিয়ে গঠিত সাধারণ পরিষদ সংগঠনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা হিসেবে এই কমিটিগুলো নির্বাচন বা অনুমোদন করবে।
সাধারণ পরিষদ
(১) সংগঠনের সকল সাধারণ সদস্য ও আজীবন দাতা সদস্য নিয়ে সাধারণ পরিষদ গঠিত হবে। এটি সংগঠনের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সংস্থা।
(২) সাধারণ পরিষদের কার্যাবলি :
ক. কার্যনির্বাহী কমিটি নির্বাচন করা;
খ. স্থায়ী কমিটির সদস্য নির্বাচন বা মনোনয়ন অনুমোদন করা;
গ. বার্ষিক কার্যবিবরণী, আয়-ব্যয়ের হিসাব ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন অনুমোদন করা;
ঘ. ভর্তি ফি, চাঁদার হার ও আজীবন দাতা সদস্যের এককালীন অনুদানের পরিমাণ নির্ধারণ করা;
ঙ. গঠনতন্ত্র সংশোধন ও সংগঠনের নীতিগত বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া;
চ. নিরীক্ষক নিয়োগ দেওয়া।
স্থায়ী কমিটি
(১) সংগঠনের নীতি, আদর্শ ও ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য ৭ (সাত) সদস্যবিশিষ্ট একটি স্থায়ী কমিটি থাকবে। এই কমিটির কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকবে না।
(২) সংগঠনের প্রতিষ্ঠার তারিখ হতে ৩ (তিন) বছর পূর্ণ হলে স্থায়ী কমিটি গঠন করা হবে।
(৩) স্থায়ী কমিটির পদ : ১ (এক) জন চেয়ারম্যান, ১ (এক) জন সদস্য সচিব এবং ৫ (পাঁচ) জন সদস্য।
(৪) স্থায়ী কমিটির সদস্যগণ সংগঠনের সাধারণ সভায় নির্বাচিত বা মনোনীত হবেন এবং এ-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অনুমোদিত হবে।
(৫) প্রথম স্থায়ী কমিটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও অভিজ্ঞ সদস্যদের মধ্য থেকে গঠিত হবে এবং সাধারণ পরিষদের অনুমোদনক্রমে কার্যকর হবে। সদস্যদের নাম গঠনতন্ত্রের শেষে তফসিলে লিপিবদ্ধ থাকবে।
(৬) স্থায়ী কমিটির সদস্যরা কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো পদে থাকতে পারবেন না। তবে কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্থায়ী কমিটির সভায় আমন্ত্রিত সদস্য হিসেবে উপস্থিত থাকবেন; তাঁদের ভোটাধিকার থাকবে না।
(৭) স্থায়ী কমিটি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই গঠনতন্ত্রে স্থায়ী কমিটির উপর অর্পিত দায়িত্ব ও ক্ষমতা সাধারণ পরিষদ পালন করবে।
স্থায়ী কমিটির ক্ষমতা ও দায়িত্ব
(১) সংগঠনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ও গঠনতন্ত্র যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না তা তদারকি করা।
(২) কার্যনির্বাহী কমিটিকে নীতিগত পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা প্রদান করা।
(৩) কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে অথবা কমিটি ও সদস্যদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে তা নিষ্পত্তি করা।
(৪) কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হলে অথবা কমিটি অকার্যকর হয়ে পড়লে ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে স্থায়ী কমিটি কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন পরিচালনা করবেন এবং নির্বাচনের ফলাফল, নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি ও যাবতীয় প্রয়োজনীয় অনুমোদন প্রদান করবেন।
(৫) গঠনতন্ত্র সংশোধনের যেকোনো প্রস্তাবে লিখিত মতামত প্রদান করা।
(৬) উপদেষ্টা নিয়োগ ও অনুমোদন : সংগঠনের উপদেষ্টা নিয়োগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রস্তাবক্রমে স্থায়ী কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন হবে।
স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ, সভা ও শূন্য পদ পূরণ
(১) সদস্যপদ বাতিল : স্থায়ী কমিটির কোনো সদস্য নিম্নলিখিত কারণে পদ হারাবেন :
ক. লিখিতভাবে পদত্যাগ করলে, মৃত্যুবরণ করলে;
খ. টানা ৩ (তিন)টি সভায় যথাযথ কারণ ছাড়া অনুপস্থিত থাকলে;
গ. সংগঠনের সুনাম ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে অথবা সংগঠনের অর্থ বা সম্পদ আত্মসাৎ করলে।
(২) কোনো সদস্যকে অপসারণ করতে হলে স্থায়ী কমিটির কমপক্ষে ৫ (পাঁচ) জন সদস্যের সম্মতি লাগবে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।
(৩) শূন্য পদ পূরণ : পদ শূন্য হলে স্থায়ী কমিটির অবশিষ্ট সদস্যরা ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে সংগঠনের কমপক্ষে ৩ (তিন) বছরের সক্রিয় সাধারণ সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে মনোনীত করবেন এবং পরবর্তী সাধারণ সভায় তা অনুমোদন নিতে হবে।
(৪) সভা : স্থায়ী কমিটির সভা কমপক্ষে প্রতি ৩ (তিন) মাসে একবার অনুষ্ঠিত হবে। চেয়ারম্যান বা সদস্য সচিব প্রয়োজনে জরুরি সভা ডাকতে পারবেন। সদস্য সচিব সভার কার্যবিবরণী সংরক্ষণ করবেন।
(৫) কোরাম : ৪ (চার) জন সদস্যের উপস্থিতিতে কোরাম পূর্ণ হবে এবং সিদ্ধান্ত উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে গৃহীত হবে। ভোট সমান হলে চেয়ারম্যান নির্ণায়ক ভোট দেবেন।
(৬) স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সংগঠনের তহবিল থেকে কোনো ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না।
কার্যনির্বাহী কমিটি
(১) সংগঠনের পরিচালনার জন্য নুন্যতম ১১ (এগারো) সদস্যবিশিষ্ট একটি কার্যনির্বাহী কমিটি থাকবে। সাধারন সদস্য সংখ্যা বৃদ্বি পেলে এক-তৃতীয়াংশ অনুপাতে কার্যনির্বাহী কমিটি কমিটির পদ বাড়বে । বর্তমান কমিটি নিম্নরূপ :
| ক্রম | পদের নাম | সংখ্যা |
|---|---|---|
| ১ | সভাপতি | ১ |
| ২ | সহ-সভাপতি | ১ |
| ৩ | সাধারণ সম্পাদক | ১ |
| ৪ | যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক | ১ |
| ৫ | সাংগঠনিক সম্পাদক | ১ |
| ৬ | সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক | ১ |
| ৭ | কোষাধ্যক্ষ | ১ |
| ৮ | দপ্তর সম্পাদক | ১ |
| ৯ | সমাজকল্যাণ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক | ১ |
| ১০ | পরিবেশ ও যুব উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক | ১ |
| ১১ | প্রচার ও তথ্য সম্পাদক | ১ |
| সর্বমোট | ১১ জন |
(২) কমিটির মেয়াদ হবে ২ (দুই) বছর। মেয়াদ শেষে নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত পুরোনো কমিটি দায়িত্ব পালন করবে।
(৩) একজন সদস্য একই সময়ে একাধিক পদে থাকতে পারবেন না।
(৪) কোনো পদ শূন্য হলে কার্যনির্বাহী কমিটি তা অন্য কোনো সদস্যকে দিয়ে পূরণ করবে এবং পরবর্তী সাধারণ সভায় অনুমোদন নেবে। নারী সদস্যের পদ শূন্য হলে নারী সদস্য দিয়েই তা পূরণ করতে হবে।
(৫) কোনো সরকারি চাকরিজীবী কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হতে পারবেন না।
কার্যনির্বাহী কমিটির ক্ষমতা ও দায়িত্ব
(১) সংগঠনের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা এবং সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা।
(২) বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট প্রণয়ন এবং সাধারণ পরিষদের কাছে উপস্থাপন করা।
(৩) সদস্যপদ প্রদান, কার্যক্রমের সমন্বয় ও প্রয়োজনীয় উপকমিটি গঠন করা।
(৪) সংগঠনের তহবিল সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
(৫) গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্যদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
(৬) প্রয়োজনে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য স্বচ্ছ পদ্ধতিতে বেতনভুক্ত বা সম্মানীভিত্তিক কর্মী নিয়োগ দেওয়া। কর্মী নিয়োগের নীতিমালা, বেতন-ভাতা ও চাকরির শর্ত কার্যনির্বাহী কমিটি নির্ধারণ করবে এবং এ ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুসরণ করা হবে। কার্যনির্বাহী কমিটির কোনো সদস্য সংগঠনের বেতনভুক্ত কর্মী হতে পারবেন না।
পদাধিকারীদের দায়িত্ব
ক. সভাপতি : সংগঠনের প্রধান। তিনি সকল সভায় সভাপতিত্ব করবেন, সংগঠনের কার্যক্রম তদারকি করবেন এবং ভোট সমান হলে নির্ণায়ক ভোট দেবেন।
খ. সহ-সভাপতি : সভাপতির অনুপস্থিতিতে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং সংগঠনের কাজে তাঁকে সহযোগিতা করবেন।
গ. সাধারণ সম্পাদক : সংগঠনের প্রধান নির্বাহী। তিনি সভা আহ্বান, কার্যবিবরণী সংরক্ষণ, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বার্ষিক প্রতিবেদন প্রস্তুত এবং সংগঠনের পক্ষে যোগাযোগ রক্ষা করবেন।
ঘ. যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক : সাধারণ সম্পাদকের অনুপস্থিতিতে তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন ও কাজে সহযোগিতা করবেন।
ঙ. সাংগঠনিক সম্পাদক : সদস্য সংগ্রহ, সংগঠন সম্প্রসারণ ও কর্মসূচির সমন্বয় করবেন।
চ. সহ - সাংগঠনিক সম্পাদক : সাংগঠনিক সম্পাদক অনুপস্থিতিতে তাঁর দায়িত্ব পালন করবেন ও কাজে সহযোগিতা করবেন।
ছ. কোষাধ্যক্ষ : সংগঠনের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ, রশিদ ও ভাউচার সংরক্ষণ এবং তহবিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
জ. দপ্তর সম্পাদক : দপ্তরের নথিপত্র, সদস্য তালিকা ও রেজিস্টার সংরক্ষণ করবেন।
ঝ. সমাজকল্যাণ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক : রক্তদান, মেডিকেল ক্যাম্প, ত্রাণ ও অন্যান্য কল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করবেন।
ঞ. পরিবেশ ও যুব উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক : পোনা অবমুক্তকরণ, পরিবেশ সচেতনতা এবং যুব উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান বিষয়ক কর্মসূচি পরিচালনা করবেন।
ট. প্রচার ও তথ্য সম্পাদক : সংগঠনের কার্যক্রমের প্রচার, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ এবং সচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালনা করবেন।
নির্বাচন ও কমিটি গঠন
(১) কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে। এই প্রক্রিয়া স্থায়ী কমিটির তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে।
(৩) কমিটি সর্বসম্মতিক্রমে অথবা গোপন ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবে।
(৪) নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে কমপক্ষে ১ (এক) বছর সাধারণ সদস্য থাকতে হবে এবং কোনো আর্থিক বকেয়া থাকা যাবে না।
(৫) সংগঠন নিবন্ধিত হওয়ার পর কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচনের তারিখ নিবন্ধন কর্তৃপক্ষকে আগে অবহিত করতে হবে এবং নির্বাচন তাঁর প্রতিনিধির উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হবে।
সভা ও কোরাম
(১) সাধারণ সভা : বছরে কমপক্ষে ১ (এক) বার বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।
(২) কার্যনির্বাহী কমিটির সভা : মাসে কমপক্ষে ১ (এক) বার অনুষ্ঠিত হবে। প্রয়োজনে সভাপতির অনুমতিক্রমে জরুরি সভা ডাকা যাবে।
(৩) সভার নোটিশ : সাধারণ সভার জন্য কমপক্ষে ৭ (সাত) দিন এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সভার জন্য কমপক্ষে ৩ (তিন) দিন আগে নোটিশ দিতে হবে। জরুরি সভার ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টার নোটিশই যথেষ্ট।
(৪) কোরাম : সাধারণ সভায় সাধারণ পরিষদের মোট সদস্যের এক-তৃতীয়াংশ এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় কমিটির অর্ধেকের বেশি সদস্য উপস্থিত থাকলে কোরাম পূর্ণ হবে। কোরামের অভাবে মুলতবি সভায় উপস্থিত সদস্যদের নিয়েই কোরাম গণ্য হবে।
(৫) সকল সিদ্ধান্ত উপস্থিত সদস্যদের সংখ্যাগরিষ্ঠ মতে গৃহীত হবে এবং সভার কার্যবিবরণী রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ ও স্বাক্ষরিত হবে।
উপদেষ্টা পরিষদ
(১) এলাকার শিক্ষিত, অভিজ্ঞ ও সমাজহিতৈষী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে, বিশেষ করে আজীবন দাতা ও সম্মানিত সদস্যদের অগ্রাধিকার দিয়ে, কার্যনির্বাহী কমিটি ৫ (পাঁচ) সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করবে। উপদেষ্টা নিয়োগ ধারা–১৪(৬) অনুযায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রস্তাবক্রমে স্থায়ী কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সম্পন্ন হবে।
(২) উপদেষ্টা পরিষদ সংগঠনকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা দেবে। উপদেষ্টাদের ভোটাধিকার থাকবে না।
(৩) উপদেষ্টা পরিষদের মেয়াদ কার্যনির্বাহী কমিটির মেয়াদের সমান হবে।
আর্থিক ব্যবস্থা
(১) তহবিলের উৎস : সদস্যদের ভর্তি ফি ও চাঁদা, আজীবন দাতা সদস্যদের এককালীন অনুদান, সদস্যদের স্বেচ্ছা দান, এলাকাবাসী ও প্রবাসীদের অনুদান, বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ এবং অন্যান্য বৈধ উৎস।
(২) ব্যাংক হিসাব পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ : সংগঠনের নামে যেকোনো তফসিলি ব্যাংকে হিসাব খুলতে হবে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের মধ্যে যেকোনো দুজনের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হবে; তবে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে সাধারণ সম্পাদক অথবা কোষাধ্যক্ষের একজন অবশ্যই থাকতে হবে। কার্যনির্বাহী কমিটির নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হলে নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ ও ব্যাংক হিসাবের স্বাক্ষর পরিবর্তন সম্পন্ন না করা পর্যন্ত বিদ্যমান কমিটির অনুমোদিত স্বাক্ষরকারীগণ হিসাব পরিচালনা করবেন। নতুন কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যাংকের নির্ধারিত নিয়ম ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনুসরণ করে হিসাবের স্বাক্ষরকারী পরিবর্তন করতে হবে।
(৩) সকল আয় রশিদের মাধ্যমে গ্রহণ এবং সকল ব্যয় ভাউচারের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। হাতে নগদ রাখার সর্বোচ্চ সীমা কার্যনির্বাহী কমিটি নির্ধারণ করবে।
(৪) সংগঠনের অর্থবছর হবে ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন। প্রতিবছর আয়-ব্যয়ের হিসাব সাধারণ সভায় উপস্থাপন করতে হবে।
(৫) সংগঠনের তহবিল শুধু লক্ষ্য-উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যয় করা যাবে।
হিসাব নিরীক্ষা
(১) সাধারণ পরিষদ বছরে অন্তত একবার সংগঠনের হিসাব নিরীক্ষার জন্য ২ (দুই) জন নিরীক্ষক নিয়োগ দেবে, যাঁরা কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য হবেন না।
(২) নিরীক্ষকরা তাঁদের প্রতিবেদন সাধারণ সভায় উপস্থাপন করবেন।
শৃঙ্খলা
(১) গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন বা সংগঠনের স্বার্থবিরোধী কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট সদস্যকে সতর্ক, সাময়িক বরখাস্ত বা বহিষ্কার করা যাবে।
(২) শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অভিযুক্ত সদস্যকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।
গঠনতন্ত্র সংশোধন
(১) কার্যনির্বাহী কমিটি, স্থায়ী কমিটি বা সাধারণ পরিষদের কমপক্ষে এক-পঞ্চমাংশ সদস্য গঠনতন্ত্র সংশোধনের প্রস্তাব দিতে পারবেন।
(২) প্রস্তাব সভার কমপক্ষে ১৫ (পনেরো) দিন আগে সদস্যদের জানাতে হবে এবং স্থায়ী কমিটির মতামত সংযুক্ত করতে হবে।
(৩) সাধারণ পরিষদের সভায় উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে গঠনতন্ত্র সংশোধন করা যাবে।
(৪) সংগঠন নিবন্ধিত হওয়ার পর গঠনতন্ত্রের কোনো সংশোধন নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ব্যতীত কার্যকর হবে না। এ উদ্দেশ্যে সংশোধনের প্রস্তাবের অনুলিপি নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাতে হবে।
সংগঠনের বিলুপ্তি
(১) বিশেষ সাধারণ সভায় সাধারণ পরিষদের মোট সদস্যের তিন-চতুর্থাংশের সম্মতিতে সংগঠন বিলুপ্ত করা যাবে। সংগঠন বিলুপ্তির জন্য স্থায়ী কমিটির পূর্বানুমোদন বাধ্যতামূলক হবে। স্থায়ী কমিটির অনুমোদন ব্যতীত সংগঠন বিলুপ্ত করা যাবে না।
(২) বিলুপ্তির পর সংগঠনের সকল দায়-দেনা পরিশোধ করে অবশিষ্ট সম্পদ অনুরূপ উদ্দেশ্যে পরিচালিত কোনো জনকল্যাণমূলক সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানকে দান করতে হবে। কোনো সদস্য এই সম্পদ নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিতে পারবেন না।
নিবন্ধন
(১) সংগঠন স্বেচ্ছাসেবী সমাজকল্যাণ সংস্থা (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এবং তদধীন প্রণীত বিধিমালা অনুযায়ী সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় নিবন্ধনভুক্ত হবে।
(২) নিবন্ধনের পর সংগঠন প্রচলিত আইন, বিধি ও নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলবে এবং প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ও হিসাব যথাসময়ে দাখিল করবে।
ব্যাখ্যা ও বিবিধ
(১) এই গঠনতন্ত্রে যে বিষয়ের উল্লেখ নেই, সে বিষয়ে কার্যনির্বাহী কমিটি সিদ্ধান্ত নিতে পারবে এবং পরবর্তী সাধারণ সভায় তার অনুমোদন নিতে হবে।
(২) গঠনতন্ত্রের কোনো ধারার ব্যাখ্যা নিয়ে মতভেদ দেখা দিলে সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
(৩) এই গঠনতন্ত্র সাধারণ পরিষদ কর্তৃক অনুমোদনের তারিখ থেকে কার্যকর হবে।
এই শব্দটি কোনো ধারায় পাওয়া যায়নি। অন্য শব্দ লিখে দেখুন।